বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
প্রিয় পাঠক আসসালামু আলাইকুম আশাকরি সবাই ভালো আছেন। আপনি কি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছেন, আপনি কি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস জানতে চাচ্ছেন তাহলে আজকের পোস্ট টি আপনার জন্য।এরকম আরও ইন্টারেস্টিং বিষয় জানতে চোখ রাখুন তামিম আইটি বিডি ওয়েবসাইটে।
আজকের আর্টিকেলে শেয়ার করতে যাচ্ছি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত বিভিন্ন খুটিনাটি বিষয়। আজকের আর্টিকেলে আপনারা জানতপ পারবেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ইত্যাদি সহ আরও অনেক কিছু।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস
মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের সাথে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই শুরু হয়। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম থেকেই পশ্চিমপাকিস্তান পুর্বপাকিস্তানকে অর্থনৈতিক,সামরিক, ভাষা,সংস্কৃতি ইত্যাদি সহ সব দিক থেকে সুষন ও নির্যাতন করা শুরু করে।পুর্বপাকিস্তান ও পশ্চিমপাকিস্তানের জনসংখ্যা প্রায় সমান হওয়া সত্বেও পাকিস্তানের শাস্তির ক্ষমতা এককভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের হাতে কেন্দ্রীভুত ছিলো।পুর্বপাকিস্তানিরা রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত ছিলো।শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরি,সহ সবদিকেই পুর্বপাকিস্তানিরা পিছিয়ে পরে।তখন পুর্বপাকিস্তানিরা বুঝতে পারে যে তাদেরকে হেয় করা হচ্ছে। ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের মোট ৫৬%ভাগ মানুষের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় পাকিস্তান সরকার।উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পরই উপস্থিত বাঙালী ছাত্র জনতা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় এবং উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানায়।কিন্তুু পাকিস্তান সরকার তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়।এতে সারা পুর্বপাকিস্তানের সাধারণ জনতা,ছাত্র,ও সর্বস্তরের জনগণ মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার আন্দোলনে জাপিয়ে পরে।পুলিশ নির্বিচারে বাঙালী জনতার উপর গুলি চালায়।পুলিশের গুলিতে সালাম,বরকত,রফিক,জব্বার সহ নাম না জানা অনেকেই শহিদ হয়।এতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি হয়।মুক্তিযুদ্ধের মুল পটভুমি তৈরি হয় ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেই নির্বাচনে পুর্বপাকিস্তানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট অংশগ্রহণ করে এবং নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্টতায় বিজয়ী হয়।কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তান সরকার নানা টালবাহানা দেখিয়ে পুর্বপাকিস্তানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়।বরং তারা ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে দমন-পীড়ন নীতি অবলম্বন করে যা পুর্বপাকিস্তানের সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের জন্ম দেয়। যা পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি করে।১৯৭১সালের পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইয়াহিয়া খান একটি সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকায় আসেন কিন্তু গোপনে তিনি তার সেনাবাহিনী এবং অস্ত্র এনে ঢাকায় মজুদ করেন এবং সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন হটাৎ সম্মেলন শেষ হওয়ার একদিন আগেই ঢাকা ত্যাগ করেন। যাওয়ার আগে সেনাবাহিনীকে পুর্বপাকিস্তানের সাধারণ জনগণের উপর আক্রমণ করার নির্দেশ দেন। ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ২৫শে মার্চ ঘুমন্ত নিরপরাধ বাঙালির উপর বর্বর হামলা চালায় এতে সাধারণ মানুষ সহ ডাক্তার, প্রফেসর,শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীদের নির্মম ও নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়।ইতিহাসে এ অভিযানকে অপারেশন সার্চলাইট বা গণহত্যা বলে অভিহিত করা হয়। এতে পুর্বপাকিস্তানে সাধারণ জনতা ক্রোধে ফেটে পড়ে এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।পরেরদিনই ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। সাথে সাথেই আপামর সাধারণ জনতা রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে জাপিয়ে পরে।এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের সুচনা হয়।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
মুক্তিযুদ্ধ হলো পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে পুর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জনসাধারণের সশস্ত্র সংগ্রাম।বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ একটি গৌরবের এবং সোনালী অধ্যায়।এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন শুরু হয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ সাধারণ জনতা,সামরিক বেসামরিক পুলিশ আনসার চাত্র,চাকরিজীবী জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করে। এতে সারা বাংলাদেশ যুদ্ধ ছরিয়ে পরে।যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধার জন্য সারা বাংলাদেশ (৩টি বিগ্রেড ফোর্সে ভাগ করা হয়।তিনটি বিগ্রেড ফোর্সের নাম দেওয়া হয় জেড ফোর্স,কে ফোর্স,এবং এস ফোর্স। জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমান কে ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেন মেজর খালেদ মোশাররফ এবং এস ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান মেজর কপ এম শফিউল্লাহ)এবং ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় প্রত্যেকটি সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন একজন করে সেক্টর কমান্ডার।সামরিক বেসামরিক পুলিশ আনসার বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিক এবং প্রশিক্ষন নেওয়া সাধারণ জনগণকে নিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠিত হয় মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল এম এ জি উসমানী চীপ অব স্টাপ ছিলেন মোহাম্মদ আব্দুর রব ডেপুটি চীপ অব স্টাপ ছিলেন গ্রুপ কেপ্টেন এ কে খন্দকার। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি তার অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয় যা ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। মুজিবনগর সরকারের অধিনেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতার সংগ্রাম সারাদেশে ছরিয়ে পরে। মুক্তিবাহিনী জলে স্থলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা আক্রমণ চালায়।অতর্কিত আক্রমণে পাকিস্তান সেনাবাহিনী দিশেহারা হয়ে পরে।এতে অল্প সময়ের মধ্যে মুক্তিবাহিনী বেশকিছু অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়।বাঙালির রণকৌশলের কাছে আধুনিক অস্ত্র সশ্ত্রে সজ্জিত বিশাল পাকিস্তান সেনাবাহিনী হার মানতে বাধ্য হয়েছে।অবশেষে জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বে ৯৩ হাজারের বিশাল পাকিস্তান সৈন্যবাহিনী মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন একটি রাষ্ট্র জায়গা করে নেয়।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারায় দুই কোটি মা-বোন ইজ্জত হারা হয় এক কোটি মানুষ পাশের দেশ ইন্ডিয়াতে আশ্রয় নেয়।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যার অবদান সবচেয়ে বেশি তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। তিনিই জাতিকে দেখিয়েছেন স্বাধীনতার সপ্ন তিনি বাঙালির মুক্তির কথা ভেবেছেন।পশ্চিম পাকিস্তানিদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনিই প্রথম রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।এবং বাঙালিদের পরাধীনতা থেকে মুক্ত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন"এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম"তার ডাকে সারা দিয়ে লাখো বাঙালি জনতা মুক্তিসংগ্রামে জাপিয়ে পরে এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান সবচেয়ে বেশি। বাঙালি জাতি কোনোদিন তাকে ভুলবেনা।তাইতো কবি বলেন "যতকাল রবে পদ্মা মেঘনা যমুনা বহমান ততকাল রবে কির্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।
আজকের আর্টিকেল সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন:বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কত মাস স্থায়ি হয়েছিল?
হ
উত্তর:নয় মাস।
প্রশ্ন:বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত সালে স্বাধীনতার ডাক দেন?
উত্তর:১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ।
প্রশ্ন:বাংলাদেশ কত সালে বিজয় লাভ করে?
উপর:১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর।
শেষ কথা :বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসন বঞ্চনা ও নির্যাতন থেকে পুর্বপাকিস্তানের জনগণের মুক্তির জন্য ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। বাঙালিরা মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার দৃড় প্রত্যয় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে পরে।শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনী হার মানতে বাধ্য হয়।এবং পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। প্রিয় পাঠক আশাকরি আজকের আর্টকেলটি সম্পুর্ন পড়ে আপনারা বুঝে গিয়েছেন আজকের আর্টিকেলে কি নিয়ে আলোচনা করেছি। যদি আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ সবাইকে।
.jpg)
.jpg)